৬ হাজার লিটার অবৈধ তেল মজুদ করছিল যুবলীগ নেতা
চট্টগ্রাম পতেঙ্গা অবৈধ তেল মজুদ, ডিজেল উদ্ধার অভিযান এবং তেল চোরাচালান—এই তিনটি বিষয় ঘিরে নগরজুড়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের অভিযানে প্রায় ৬ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল উদ্ধার হয়েছে, আর এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে যুবলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ীকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকার মাদ্রাসা গেট সংলগ্ন একটি টিনশেড গুদামে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ডিজেল উদ্ধার করা হলেও গুদাম মালিক মোহাম্মদ আলমগীর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে তেল সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে তেল বাণিজ্য
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা রাতের আঁধারে ট্রলারযোগে বিভিন্ন উৎস থেকে কম দামে ডিজেল সংগ্রহ করত। পরে তা গুদামে সংরক্ষণ করে ভোরের দিকে পরিবহন মালিক ও ঠিকাদারদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করা হতো। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার সুযোগ নিয়ে এই অবৈধ ব্যবসা আরও বিস্তৃত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা আহমেদ বলেন, “আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অংশ। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন যানবাহন থেকে ডিজেল সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মজুদ ও বিক্রি করে আসছিল।”
গ্রেপ্তার ও তদন্ত অগ্রগতি
অভিযানের সময় পুলিশ দুই সহযোগী—আল-আমিন (২৭) ও মো. মাসুদ (৪০)-কে গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গুদামের জমির মালিকের দুই ছেলে আরিফ ও আশরাফকেও এ চক্রের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা ডিজেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। তেলের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তেল মজুদ ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়দের ভীতি ও প্রভাবের অভিযোগ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চললেও কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। স্থানীয়দের মতে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এমন চোরাই তেলের সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকে।
বৃহত্তর নেটওয়ার্ক উন্মোচনের সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পতেঙ্গা ও কর্ণফুলী উপকূল এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাই জ্বালানি তেলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক এই অভিযান বড় ধরনের একটি নেটওয়ার্ক উন্মোচনের সূচনা হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পলাতক প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে আরও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
Source: Based on reporting from Amar Desh
