জামিন পেলেন ইনু-মেনন-মানিক
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক জামিন পেয়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকার একটি আদালত শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি এ আদেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এদিন আদালতে হাজিরার পর তিন আসামির পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন, যা শুনানি শেষে মঞ্জুর করা হয়।
আদালতে যা ঘটেছে
আদালত সূত্রে জানা যায়, এই মামলায় হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। অন্যদিকে রাশেদ খান মেনন ও এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে হাজিরার জন্য আদালতে আনা হয়। শুনানি শেষে আদালত ইনুকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখান এবং পরে তিনজনেরই জামিন মঞ্জুর করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার পটভূমি
এই মানহানির মামলাটি ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট দায়ের করা হয়। আইনজীবী জিয়াউল হক বাদী হয়ে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন সময় প্রকাশ্য বক্তব্য ও টক শোতে অংশ নিয়ে আসামিরা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, যা তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি মেনন ও মানিককে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়বস্তু
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর একটি টেলিভিশন টক শোতে অংশ নিয়ে বিচারপতি (অব.) শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক জিয়াউর রহমানকে ‘রাজাকার’ বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক সেমিনারে তিনি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যে হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধেও একই ধরনের মন্তব্যের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা এই মামলার মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা ও মূল্যায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন অবস্থান পোষণ করে থাকে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মানহানির মামলাগুলোতে আদালত সাধারণত বক্তব্যের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য এবং প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে। এ ধরনের মামলার নিষ্পত্তি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।
শেষ কথা
আদালতের এই জামিন আদেশে আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন তিন আসামি। তবে মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকায় ভবিষ্যতে এর অগ্রগতি রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
