এই ভূখণ্ডের মানুষ কখনো পরাজয় মানেনি : নাহিদ ইসলাম
স্বাধীনতা দিবসের বার্তা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উঠে এসেছে গণতন্ত্র, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও জাতীয় আত্মমর্যাদার প্রশ্ন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ইতিহাসজুড়ে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এই ভূখণ্ডের মানুষ কখনো পরাজয় মেনে নেয়নি।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বার্তা
২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসকে সামনে রেখে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, দিনটি জাতির জন্য গৌরব, আত্মত্যাগ ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার কথা তুলে ধরেন।
একই সঙ্গে তিনি নির্যাতিত বীরাঙ্গনাদের অবদানও স্মরণ করে বলেন, তাদের ত্যাগ জাতির ইতিহাসকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করেছে।
গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে অতীতে বারবার বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে এবং জনগণের ওপর স্বৈরাচারী শাসন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
তার মতে, এসব পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণ বারবার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
স্বাধীনতার আদর্শ এখনো অপূর্ণ
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা শুধু ভৌগোলিক অর্জন ছিল না; বরং এটি ছিল ন্যায়, সাম্য, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার।
তবে স্বাধীনতার এত বছর পরও সেই আদর্শ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, একটি জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এখনো অনেক পথ বাকি।
নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান
নাহিদ ইসলাম তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ধারণ করে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। তিনি সত্য, ন্যায়, সাহস ও দেশপ্রেমকে আগামী প্রজন্মের প্রধান মূল্যবোধ হিসেবে তুলে ধরেন।
তার ভাষায়, “আগামীর বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের হাতে, তাই তাদের আদর্শিকভাবে শক্তিশালী হওয়া জরুরি।”
রাষ্ট্র গঠনে প্রতিশ্রুতি
বাণীতে তিনি দুর্নীতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে সকল নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।
উপসংহার
স্বাধীনতা দিবসের এই বার্তায় অতীতের সংগ্রাম ও বর্তমানের চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে উঠে এসেছে। ইতিহাসের শিক্ষা নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের আহ্বানই ছিল বক্তব্যের মূল সুর।
Source: Based on reporting from Amar Desh
