সন্ধ্যায় রবীন্দ্র সরোবরে গান গাইবেন আসিফ মাহমুদ

ঈদ উৎসব ঢাকা, রবীন্দ্র সরোবর, আসিফ মাহমুদ—রাজধানীতে নাগরিক উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী ঈদ উৎসবের আয়োজন শুরু হচ্ছে আজ। এর প্রথম দিনে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় গান গাইবেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নাগরিক সংস্কৃতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই এই আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মেহেদী উৎসব দিয়ে শুরু

প্রথম দিনের আয়োজন শুরু হবে মেহেদী উৎসবের মাধ্যমে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলবে এই অংশ, যেখানে নারী-পুরুষসহ তরুণ-তরুণীরা অংশ নেবেন। আয়োজকদের মতে, এটি শুধু একটি উৎসব নয়, বরং সামাজিক বন্ধন জোরদারের একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করবে।

দিনের এই অংশ শেষে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যার প্রধান আকর্ষণ থাকবেন আসিফ মাহমুদ। সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি আরও কিছু সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে বলে জানা গেছে।

ঈদের দিন বর্ণাঢ্য মিছিল

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে, অর্থাৎ ঈদের দিন আয়োজন করা হবে একটি বর্ণাঢ্য ঈদ মিছিল। এই মিছিল রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করবে।

আয়োজকরা বলছেন, এই মিছিল ঢাকার পুরনো ঈদ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, যা সময়ের সঙ্গে অনেকটাই হারিয়ে গেছে। সেই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শেষ দিনে ঘুড়ি উৎসব

তিনদিনের এই আয়োজনের শেষ দিন অনুষ্ঠিত হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে ঘুড়ি উৎসব। এতে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ অংশ নিতে পারবেন। রঙিন ঘুড়িতে আকাশ ভরে ওঠার মধ্য দিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা হবে।

আয়োজকদের মতে, এই আয়োজন শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বরং নগর জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে মানুষকে কিছুটা স্বস্তি ও আনন্দ দেওয়ার একটি প্রয়াস।

নাগরিক সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ

বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার মতো ব্যস্ত মহানগরে এমন উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক আয়োজন মানুষের সামাজিক সংযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ঈদের মতো বড় উৎসবকে ঘিরে এ ধরনের উদ্যোগ নগর সংস্কৃতিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে।

আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম ঐতিহ্যবাহী উৎসব সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।

উপসংহার

রবীন্দ্র সরোবর থেকে শুরু হওয়া এই তিনদিনের ঈদ উৎসব রাজধানীর নাগরিক জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। অংশগ্রহণমূলক এই আয়োজন সফল হলে ঢাকায় উৎসবকেন্দ্রিক সংস্কৃতি আরও বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News