কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইসরাইলি মেয়র, দুষলেন নেতানিয়াহুকে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইল-লেবানন সীমান্তে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক হামলায় উত্তর ইসরাইলের বেশ কয়েকটি বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরতে গিয়ে এক ইসরাইলি মেয়র আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের সমালোচনা করেন।
সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় মিসগাভ আম, তেশুবা ও গাদের মতো সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মেয়রের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া
উত্তরাঞ্চলের মারগালিওট এলাকার মেয়র আভিচাই স্টার্ন এক ভার্চুয়াল বৈঠকে পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় স্থানীয় কাউন্সিল প্রধানদের সঙ্গে, যেখানে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।
স্টার্ন অভিযোগ করেন, হিজবুল্লাহর হামলায় সীমান্তবর্তী বসতিগুলো কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, অথচ কেন্দ্রীয় সরকার পর্যাপ্ত সহায়তা দিচ্ছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোনো রাষ্ট্র আমাদের সমর্থন করছে না। আপনারা সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তা স্বীকার করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তার ভাষায়, এটি সরকারের জন্য একটি “বড় পরাজয়”।
সরকারের অবস্থান
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্থানীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তবে মাঠপর্যায়ের নেতারা বলছেন, নিরাপত্তা ও সহায়তা না থাকলে জনগণকে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
হিজবুল্লাহর হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় অন্তত ৮২টি অভিযান চালানোর দাবি করেছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল মূলত সেই সব অঞ্চল, যেখানে ইসরাইলি বাহিনী অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।
হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে, তারা ইসরাইলি বাহিনীর দুটি ট্যাংক ধ্বংস করেছে। যদিও এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ যে তীব্র হচ্ছে, তা স্পষ্ট।
স্থলযুদ্ধে উত্তেজনা
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ চলছে। কানতারা ও মিনিয়ারা শহরে উভয় পক্ষের মধ্যে স্থলযুদ্ধের খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘর্ষ দীর্ঘায়িত হলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।
বাংলাদেশি প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, যার প্রভাব বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে দেশের আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে।
উপসংহার
উত্তর ইসরাইলে চলমান হামলা ও মানবিক সংকট দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় নেতৃত্বের ক্ষোভ ও কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের মধ্যে যে ফাঁক তৈরি হয়েছে, তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এখন নজর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এবং এই সংঘাত কতটা বিস্তৃত হয় তার দিকে।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
