পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩
পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া বাস উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তলিয়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।
হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ১৬ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আরও ৫টি মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২টি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
যেভাবে উদ্ধার করা হয় বাস
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, বাসটি নদীর প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে পন্টুনের নিচে আটকে পড়ে। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ধীরে ধীরে বাসটিকে ওপরে তুলে আনে।
বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার সময় প্রায় ১১ জন যাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বাস থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ঘটনার পরপরই দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাস উদ্ধারে প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল জোরালো অভিযান শুরু করে।
নিহতদের নাম
- রেহেনা আক্তার (৬১), রাজবাড়ী
- মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া
- রাজীব বিশ্বাস (২৮), কুষ্টিয়া
- জহুরা অন্তি (২৭), রাজবাড়ী
- কাজী সাইফ (৩০), রাজবাড়ী
- মর্জিনা আক্তার (৩২), গোয়ালন্দ
- ইস্রাফিল (৩), কুষ্টিয়া
- সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২)
- ফাইজ শাহানূর (১১)
- তাজবিদ (৭)
- আরমান খান (৩১) – বাস চালক
- নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০)
- লিমা আক্তার (২৬)
- জোস্ন্যা (৩৫)
- মুক্তা খানম (৩৮)
- নাছিমা (৪০)
- আয়েশা আক্তার সুমা (৩০)
- সোহা আক্তার (১১)
- আয়েশা সিদ্দিকা (১৩)
- আরমান (৭ মাস)
- আব্দুর রহমান (৬)
- সাবিত হাসান (৮)
- আহনাফ তাহমিদ খান (২৫)
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল ও দুর্ঘটনাস্থল। নিখোঁজদের খোঁজে এখনো অনেক পরিবার ছুটে বেড়াচ্ছে।
