যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইসরাইলেও চলছে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ, বিপাকে নেতানিয়াহু

ইরান যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে তেলআবিবে বিক্ষোভ
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে তেলআবিবে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ১২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে তেলআবিবের রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা। একই দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রেও চলছে প্রতিবাদ। গাজায় চলমান অভিযান এবং ইরানে যুদ্ধের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে নতুন চাপের মুখে পড়েছে ইসরাইল সরকার।

শনিবার রাতে তেলআবিবের হাবিমা স্কোয়ারে আয়োজিত এক বিশাল যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে অন্তত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইলি পুলিশ।

বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক ও আইনের ছাত্র ইতমার গ্রিনবার্গ জানান, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মধ্যে শনিবারের জমায়েতটি ছিল সবচেয়ে বড়, যেখানে প্রায় ১২০০ মানুষ অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমদিকে মাত্র ২০ জন নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও বর্তমানে সাধারণ মানুষের সমর্থন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গ্রিনবার্গ বলেন, আগে কেবল ইসরাইলের কট্টর বামপন্থিরাই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করতেন। তবে এখন উদারপন্থি ইহুদিবাদীরাও আন্দোলনে যোগ দিতে শুরু করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলি জনমত সাধারণত যুদ্ধের পক্ষে থাকলেও শনিবারের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একটি ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নয় বরং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের ধরপাকড় সত্ত্বেও ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, উদারপন্থি ইহুদিবাদীদের রাস্তায় নামা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যুদ্ধের ব্যয়ভার, রিজার্ভ সেনাদের দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের ‘সহিংস’ আচরণের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজর কেড়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ কয়েকটি সংগঠন এই গ্রেফতারকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে।

Next News Previous News