স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বহু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি : জামায়াত আমির

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্ণ হলেও দেশের মানুষের বহু প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও বর্তমান বাস্তবতা

বিবৃতিতে তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সে সময় দেশের মানুষ ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসনমুক্ত একটি রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্নে একত্রিত হয়েছিল।

তবে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর অর্জন মূল্যায়নে দেখা যায়, সেই লক্ষ্যগুলোর অনেকই এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে এখনও বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে।

রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নতুন প্রত্যাশা

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ রাজনৈতিক শাসন পরিবর্তনের পর দেশে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা—দেশে যেন আর কোনো স্বৈরশাসনের উদ্ভব না ঘটে এবং নাগরিকরা ভয়মুক্ত পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমাজে বৈষম্য দূর করে সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আহ্বান

বিবৃতিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত স্বাক্ষর এবং গণভোটে ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও এই সনদ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিলম্ব জনগণ মেনে নেবে না।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

বিবৃতির শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পাশাপাশি সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।

প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতা দিবস ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যে সাধারণত দেশের অর্জন ও সীমাবদ্ধতা দুটোই উঠে আসে। এতে একদিকে ইতিহাসের মূল্যায়ন হয়, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণের দিকনির্দেশনাও পাওয়া যায়।

সব মিলিয়ে, স্বাধীনতার অর্জন ও অপূর্ণতার প্রশ্নটি এখনও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News