১০ বছরের মধ্যে ধ্বংস হতে পারে মার্কিন অর্থনীতি

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি অস্থিরতায়
অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সংঘাত

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি অস্থিরতায়

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬

ইরানে যৌথভাবে আগ্রাসন চালাচ্ছে গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র। এতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ছাড়িয়ে যাচ্ছে ২০০ ডলার এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যও ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এই আগ্রাসনের সরাসরি প্রভাব মার্কিন ভূমিতে না পড়লেও অর্থনৈতিক প্রভাব টের পাচ্ছে দেশটির নাগরিকরা। ইতোমধ্যে জ্বালানি, পরিবহণ খরচ, বিমান ভাড়া, খাদ্যদ্রব্যসহ বেশকিছু পণ্য ও সেবার মূল্য বেড়ে গেছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশটির ১০ বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক।

নতুন জনমত জরিপ অনুযায়ী, ১০ জনের মধ্যে ৪ জনেরও বেশি আমেরিকান বিশ্বাস করেন যে এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা ‘সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক পতন’ সম্ভাব্য মনে করছেন।

জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আশঙ্কা বেশি (৫৩ শতাংশ), রিপাবলিকানদের মধ্যে ২৮ শতাংশ। ৪৩ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে মন্দার মধ্যে রয়েছে। এছাড়া ৫০ শতাংশ নাগরিক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনীতি সামলানোর দক্ষতায় আস্থা রাখেন না।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে হরমুজ প্রণালির স্থবিরতা এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য সাধারণ অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, জাহাজ ভাড়া ও বিমান ভাড়াকে প্রভাবিত করবে।

বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে যে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ০.৭ শতাংশ মাত্র, যা আগের অনুমানের চেয়ে কম। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৪ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩.৮ শতাংশ।

শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, গত মাসে ৯২ হাজার কর্মী ছাঁটাই হয়েছে এবং বেকারত্বের হার বেড়ে ৪.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে মুদ্রাস্ফীতি মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। জেরোম পাওয়েল সতর্ক করেছেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাব ভবিষ্যতে শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।

Next News Previous News