বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা
বিদ্যুতের নতুন মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বর্ধিত দাম প্রত্যাহার এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
বুধবার (৩ জুন) এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল Mia Golam Parwar এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্রাহক ও পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা জনস্বার্থবিরোধী। দলটির দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়াবে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগে থেকেই বেশি থাকায় বিদ্যুতের বাড়তি খরচ সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং কৃষকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শিল্প ও কৃষিতে প্রভাবের আশঙ্কা
দলটির নেতারা মনে করছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বাজারে পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, অপচয় এবং ব্যবস্থাপনার নানা সমস্যার অভিযোগ তুলে বলেন, এসব বিষয় সমাধান না করে দাম বাড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচি
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে দলটি। ঢাকায় জামায়াতের মহানগর শাখার উদ্যোগে ৪ জুন বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশ আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ মূল্য ও জনজীবন
বিদ্যুতের দাম পরিবর্তন সাধারণত অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রভাব ফেলে। বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিল্প, কৃষি ও সেবা খাতেও বিদ্যুৎ ব্যয়ের পরিবর্তন উৎপাদন ও বাজারমূল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, উৎপাদন খরচ এবং বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
Source: Based on reporting from The Daily Ittefaq.
