যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাছাকাছি: আব্বাস আরাঘচি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাছাকাছি: আব্বাস আরাঘচি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাছাকাছি: আব্বাস আরাঘচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় একটি সম্ভাব্য সমঝোতা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কাছাকাছি পৌঁছেছে। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাঘচি আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও এখনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

আরাঘচি কী বলেছেন?

ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকের ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্মুক্ত হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলা এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা হলে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্ভব হতে পারে।

তবে একই সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থ ও নিজেদের ঘোষিত “লাল রেখা” থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

এখনো কী কী বিষয়ে মতভেদ রয়েছে?

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদের মতো বিষয়গুলো এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

এ ছাড়া সম্ভাব্য সমঝোতার বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

ওয়াশিংটন থেকেও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার আগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিষ্পত্তি প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইতিবাচক বক্তব্য সত্ত্বেও আলোচনার শেষ ধাপে পৌঁছাতে এখনো রাজনৈতিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ববাজারে সম্ভাব্য প্রভাব

যদি দুই দেশ একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে ধারণা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও এমন অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে।

উপসংহার

আব্বাস আরাঘচির বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় আশাবাদের বার্তা পাওয়া গেলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। উভয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এবং বাস্তব অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করবে এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল সমঝোতায় রূপ নেয় কি না।

Next News Previous News