বেতন বৃদ্ধির সমান্তরালে দুর্নীতি দমনেও কঠোর হতে হবে: মুনীর চৌধুরী

বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান

বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান সাবেক দুদক মহাপরিচালকের

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বেপরোয়া দুর্নীতি ও হয়রানির কারণে সরকারি সেবা প্রদান ব্যবস্থা এবং আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। তার মতে, শাসনব্যবস্থার সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ দুর্নীতি এবং এটি নির্মূলে সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের উদাহরণ অনুসরণ করা যেতে পারে।

বেতন বৃদ্ধি দুর্নীতির লাইসেন্স হতে পারে না

মুনীর চৌধুরী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করার পরও যদি দুর্নীতির প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া উচিত নয়। দায়িত্বে অবহেলা, অদক্ষতা ও অকর্মণ্যতার জন্য কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি করলে অনিবার্যভাবে শাস্তি পেতে হবে—এমন মানসিকতা সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে প্রচলিত বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে দুর্নীতির বিচার ও শাস্তি দেওয়ার পদ্ধতি অনেকাংশে কার্যকারিতা হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সৎ ও দক্ষ আমলাতন্ত্র গঠনের তাগিদ

সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব বলেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক আমলাতন্ত্র। এজন্য দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, অবৈধ সম্পদ জব্দ এবং যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি মনে করেন, দুর্নীতির মামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার সব ধরনের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদের রক্ষায় উচ্চপর্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

নতুন পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। অনেকেই আশা করছেন, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পেলে দুর্নীতির প্রবণতা কমে আসবে।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মানুষের আর্থিক সংকট কমলে দুর্নীতির প্রবণতাও কমার কথা। তার মতে, অভাব-অনটন অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে অনৈতিক পথে যেতে প্ররোচিত করে।

দুদকে থাকাকালে আলোচিত অভিযান

উল্লেখ্য, মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০১৮-১৯ সালে দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। ওই অভিযান প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে তাকে দুদক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

Next News Previous News