ইরানের সঙ্গে ১৫ ঘণ্টার যুদ্ধে যে শিক্ষা পেল ইসরাইল

ইসরাইল-ইরান উত্তেজনা ও নেতানিয়াহুর কৌশলগত সংকট
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ | ৯ জুন ২০২৬

ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই থেমে যাওয়ায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন রাজনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের এই সংক্ষিপ্ত পর্ব ইঙ্গিত দিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখনও নির্ধারক।

রোববার ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হলেও সোমবারের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করার আশা করে থাকেন, তাহলে সেই কৌশল সফল হয়নি। বরং পরিস্থিতি দেখিয়েছে, ওয়াশিংটনের অবস্থান উপেক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত চালিয়ে যাওয়া ইসরাইলের জন্য সহজ হবে না।

“যুদ্ধ কখন শুরু হবে এবং কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তেল আবিবভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত করছে যে ইরান, হিজবুল্লাহ ও তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার পথ অনুসরণ করতে পারে। এর ফলে ইসরাইলের জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

রোববার হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর ইসরাইল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালায়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ইসরাইলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পরে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীও ইসরাইলমুখী হামলার হুমকি দেয়।

নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ইরান ও হিজবুল্লাহর নতুন কৌশলগত অবস্থান তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং ইসরাইল নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা নেতানিয়াহুকে তার সমর্থকদের কাছে দৃঢ় নেতৃত্বের বার্তা দেওয়ার সুযোগ দিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আবারও ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

ইসরাইলের অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে পুরোপুরি থামাতে ব্যর্থ হতে পারে। সেই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হলে আঞ্চলিক প্রভাবও বৃদ্ধি পেতে পারে।

সার্বিকভাবে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ময়দানে সামরিক শক্তি যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, সংঘাতের পরিণতি নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব এখনো কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।

Next News Previous News