এবার ঢাকা বিভাগের সেরা শিক্ষিকা হলেন হাফিজা

ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিকা হাফিজা খানম

প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিকা নির্বাচিত হয়েছেন গোপালগঞ্জের শিক্ষিকা হাফিজা খানম। ঢাকা বিভাগীয় বাছাই কমিটির মূল্যায়নে তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করেন।

এর আগে গোপালগঞ্জ জেলা বাছাই কমিটির মূল্যায়নে তিনি জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিকা নির্বাচিত হন। জেলা পর্যায়ে সাফল্যের পর বিভাগীয় পর্যায়েও নিজের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে সেরার আসন দখল করেছেন তিনি।

গত ৩ জুন প্রকাশিত ফলাফলে এই তথ্য জানানো হয়। ফলাফলে স্বাক্ষর করেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও বাছাই কমিটির সভাপতি শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক ও সদস্য সচিব মো. আবদুল আজিজ।

হাফিজা খানমের এই অর্জনে গোপালগঞ্জের শিক্ষা অঙ্গনে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

প্রাথমিক শিক্ষা পদক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সূচক অনুসরণ করা হয়। একজন শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীলতা, ব্যক্তিত্ব, সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাসহ নানা বিষয় মূল্যায়ন করা হয়।

এছাড়া শিশুদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি, কাব স্কাউটিং এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অবদানও নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রথমে ইউনিয়ন বা ক্লাস্টার পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে তথ্য উপজেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। এরপর উপজেলা, জেলা এবং সর্বশেষ বিভাগীয় পর্যায়ের কঠোর মূল্যায়ন ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন করা হয়।

হাফিজা খানমের এই সাফল্য দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার ফল। এর আগে তিনি ২০২২ ও ২০২৪ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নারী সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হন। এছাড়া ২০২৪ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন।

২০২৬ সালে এসে তিনি আগের সব সাফল্যকে ছাড়িয়ে ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিকার সম্মান অর্জন করে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করলেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে তার এই অর্জন অন্য শিক্ষকদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Next News Previous News