ফেনীতে তিন ডাকাতকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিল যুবদল নামধারীরা
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় ডাকাতির অভিযোগে গ্রামবাসীর হাতে আটক তিন যুবককে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি পক্ষ নিজেদের যুবদল পরিচয় দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি ডাকাতির নয়; বরং একটি ভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিরা সেখানে গিয়েছিল।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের আলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি সিএনজি অটোরিকশায় করে আলামপুর গ্রামের একটি বাড়ির সামনে আসে। এ সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ করা হয়, দুর্বৃত্তরা প্রবাসী হামিদুল হকের বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখায় এবং মারধর করে। একপর্যায়ে তার স্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ জড়ো হয়ে তিন যুবককে ধরে ফেলে। পরে তাদের মারধর করে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
থানায় নেওয়ার পর নতুন অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিদের পুলিশে দেওয়ার পর একটি পক্ষ থানায় গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই পক্ষ নিজেদের যুবদল পরিচয় দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানা গেছে। তবে পরে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের বক্তব্য
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান জানিয়েছেন, বিষয়টি ডাকাতির ঘটনা নয়। তার দাবি, ওই তিন যুবক একটি পলাতক ব্যক্তিকে ধরতে সেখানে গিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ওসি আরও জানান, থানায় আনার পর উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, যদি কোনো অপরাধ ঘটে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামাঞ্চলে কোনো ঘটনার পর জনতার হাতে আটক বা দলীয় পরিচয়ের প্রভাব যেন আইনি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত না করে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের বক্তব্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি আরও যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Source: Based on reporting from Amar Desh and statements from local residents and Daganbhuiyan Police.
