ঢাবিতে নারী হেনস্তার প্রতিবাদে ছেলের হলে দলবেঁধে খেলা দেখলেন মেয়েরা

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ হেনস্তার অভিযোগের প্রতিবাদে শহীদুল্লাহ হল মাঠে খেলা দেখলেন নারী শিক্ষার্থীরা

হেনস্তার অভিযোগের প্রতিবাদে শহীদুল্লাহ হল মাঠে দলবেঁধে খেলা দেখলেন নারী শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে এক সাবেক শিক্ষার্থী দম্পতি হেনস্তার অভিযোগের প্রতিবাদে দলবেঁধে মাঠে বসে খেলা দেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল নারী শিক্ষার্থী। রোববার (২৮ জুন) সকালে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচ উপলক্ষে তারা শহীদুল্লাহ হল মাঠে জড়ো হন। এ সময় অংশগ্রহণকারী নারী শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এর আগে শনিবার রাতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রী। খেলা শেষে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে। সেই আয়োজনের অংশ হিসেবে শুক্রবার রাতে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের এক সাবেক শিক্ষার্থী তার স্ত্রীকে নিয়ে শহীদুল্লাহ হলে খেলা দেখতে গেলে হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক সাজু মিয়া ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক ও হয়রানিমূলক প্রশ্ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তারা দম্পতিকে খেলা না দেখেই হল ত্যাগ করতে বাধ্য করেন।

সানজানা চৌধুরী রাত্রী বলেন, নারীর প্রতি এমন বৈষম্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই প্রতিবাদ জানাতে নারী শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে মাঠে এসে খেলা দেখেছেন। একই সঙ্গে প্রক্টর অফিসে স্মারকলিপি দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হবে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষার্থী নেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান নারী শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানান। জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব রিফাত রশিদও নারী অধিকার প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে শহীদুল্লাহ হলে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে এক সাবেক শিক্ষার্থী ও তার স্ত্রী হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযুক্ত হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক সাজু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাউকে হেনস্তা করা হয়নি; হলের নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে তাদের শুধু চলে যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল।

Next News Previous News