যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নতুন হামলায় কড়া বার্তা চীনের

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ঘিরে বেইজিং দুই দেশকেই অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করে কূটনৈতিক পথে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

উত্তেজনার নতুন ধাপ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার (১০ জুন) জানায়, সাম্প্রতিক সামরিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, তাই উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখাতে হবে।

তিনি আরও জানান, সামরিক পদক্ষেপ বৃদ্ধি না করে বরং আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হামলা-পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, একটি সাম্প্রতিক ঘটনার জবাবে তারা ইরানের কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর আগে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে দাবি করা হয়।

এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। দেশটির সামরিক বাহিনী মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চীনের কূটনৈতিক অবস্থান

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, এই ধরনের সামরিক উত্তেজনা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানান।

বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সবসময়ই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানকে সমর্থন করবে।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যও এই সংঘাতের কারণে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে তেল বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান

চীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তি এখন দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা করছে। বেইজিংয়ের মতে, সামরিক শক্তি প্রয়োগ নয়, বরং সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াই এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ।

শেষ কথা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। চীনের কড়া বার্তা এই ইঙ্গিত দেয় যে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

Source: Based on reporting from The Daily Ittefaq (Digital Desk)

Next News Previous News