রাশিয়ার শ্রমবাজারে ১ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ, সম্মত রুশ কর্তৃপক্ষ
রাশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীর সুযোগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বর্তমানে রাশিয়ায় কর্মরত প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় এক লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। রুশ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত কাজ করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
জনশক্তি রপ্তানি বাড়াতে ঢাকার প্রস্তাব
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মস্কোতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন। দুই দেশের আলোচনায় জনশক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাশিয়ার বিভিন্ন খাতে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।
দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ
শ্রমবাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দুই পক্ষই মনে করে, বর্তমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় কম এবং তা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পের পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়াতে আগামী সপ্তাহগুলোতে একটি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল রাশিয়া সফরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রুশ পক্ষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
প্রযুক্তি ও এআই সহযোগিতায় আগ্রহ
দুই দেশের আলোচনায় প্রযুক্তি খাত, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য রাশিয়ার একটি প্রতিনিধি দলকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়া বাংলাদেশের জাতীয় এআই নীতিমালা প্রণয়ন এবং এ খাতে একটি ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার শ্রমবাজারে বড় পরিসরে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এতে প্রবাসী আয় বাড়ার পাশাপাশি দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে বড় সংখ্যায় কর্মী পাঠানোর আগে প্রশিক্ষণ, ভাষাগত দক্ষতা, কর্মপরিবেশ এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।
ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ
বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য ও জনশক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশ তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে চায়। মস্কোর সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Source: Based on reporting from Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS)
