সার্টিফিকেটসর্বস্ব শিক্ষা আর নয়, ক্যাম্পাস থেকেই তৈরি হবে উদ্যোক্তা: প্রধানমন্ত্রী
সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।
রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে ‘দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা শেষ করলেও ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবে অনেকেই কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এখন একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের মাধ্যমে দেশকে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দুই হাজারের বেশি কলেজে ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ফলে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা বিস্তারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা কারিকুলামে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল কমিউনিকেশন এবং ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসির মতো বিষয়গুলোকে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এ ছাড়া জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানো টেকনোলজি, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো উদীয়মান খাতেও শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষিত বেকারত্ব কমাতে সরকার ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ’ এবং ইন্টার্নশিপ বা অ্যাপ্রেন্টিসশিপ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়নে ‘সিড ফান্ডিং’ ও ‘ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার সাফল্য অনেকাংশে শিক্ষকের জ্ঞান, দক্ষতা ও সততার ওপর নির্ভর করে। তাই শিক্ষকদের শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের সামনে আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবেও ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও পরিবেশ সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত একটি বিদেশি ভাষা শেখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এতে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিশ্বের সামনে একটি সফল ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
