ইরানকে ৬০ দিনের আলটিমেটাম ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যা তেহরানের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না।
শনিবার (২০ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে কাতারের দেওয়া একটি বিমান উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাম্প্রতিক সমঝোতাকে স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর ট্রাম্পের
ট্রাম্প বলেন, তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চান। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকবে।
তিনি বলেন, “৬০ দিনের মধ্যে আমাদের একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় এমন কিছু করা হবে, যা তাদের পছন্দ হবে না।” একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে যাবে না এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব হবে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন টানাপোড়েন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার পর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে স্থায়ী চুক্তি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নতুন সময়সীমা কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর একটি কৌশল হতে পারে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করছে এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
হরমুজ প্রণালি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি হওয়ায় এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তেলের বাজার, পরিবহন খরচ এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সামনের পথ
৬০ দিনের সময়সীমা ঘিরে এখন দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব হবে কি না, সেটিই আগামী দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
Source attribution: Source: Based on reporting from যুগান্তর ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন
