ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলে তোপের মুখে নেতানিয়াহু
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নেতানিয়াহুর সমালোচনায় সরব ইসরাইলি বিরোধীরা
লেবাননে চলমান ইসরাইলি হামলার জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইসরাইলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী রাজনৈতিক নেতা নাফতালি বেনেট এই ঘটনাকে ‘সত্যের মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইসরাইলকে এখন প্রমাণ করতে হবে যে দেশটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে শক্তিশালী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
বেনেটের মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলকে ইরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারির কিছুক্ষণ পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আজ রাতে তেহরানকে অবশ্যই জ্বলতে হবে।” তার এই বক্তব্য ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান নেতানিয়াহুর নেতৃত্বকে সরাসরি ব্যর্থ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের প্রতিপক্ষরা ইতোমধ্যেই বুঝে গেছে যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দুর্বল নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গোলানের মতে, বর্তমান সরকারের আর দেশকে নতুন কোনো সংঘাতে জড়ানোর নৈতিক বা রাজনৈতিক বৈধতা নেই।
তিনি জনগণের প্রতি আসন্ন নির্বাচনে সরকার পরিবর্তনের আহ্বানও জানিয়েছেন। তার ভাষায়, বর্তমান সংকট দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
এর আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, ইরান থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এবং সেগুলো প্রতিহত করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় উত্তর ইসরাইলের হাইফাসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।
রোববার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলার পর থেকেই সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় দেশটির সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনা নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানাচ্ছে।
