একটু সরে দাঁড়াতে’ বলায় পুলিশকে পিটুনি, সেই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার
নেত্রকোনার মদনে দুই পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ মিঠু মিয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা ছাত্রদল।
ঘটনার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা
শুক্রবার (৫ জুন) নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম খান পাঠানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, সংগঠনের নীতিমালা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অভিযোগের ভিত্তিতে মিঠু মিয়ার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মদন পৌর সদরের সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় একটি বাস কাউন্টারকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
সেখানে যাত্রীরা বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেন। এ সময় ছাত্রদল নেতা মিঠু মিয়াও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ তাকে কিছুটা দূরে সরে যেতে বললে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহত দুই পুলিশ সদস্য
পুলিশের অভিযোগ, ওই ঘটনায় দুই কনস্টেবল আহত হন। আহতরা হলেন মদন থানার সদস্য ফরিদুল ইসলাম ও আতাউর রহমান। পরে তাদের মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবককে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ছাত্রদলের বক্তব্য
মদন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এস এইচ পিপুল জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মিঠু মিয়াকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংগঠনের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা
রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগ এলে তা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা তৈরি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে অপরাধের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
নেত্রকোনার মদনের এই ঘটনায় একদিকে পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সংগঠন দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। এখন তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে।
Source: Based on reporting from The Daily Ittefaq
