তারা প্রকাশ্যে খুন করে, প্রচারণা চালায়, দোয়া চায় ফেসবুকে
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে খুন, হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নগরীর ব্যস্ত এলাকাতেও সংঘটিত এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত বাড়ছে।
জনসমাগমের মাঝেও ঘটছে হামলা
খুলনা নগরের ব্যস্ত ডাকবাংলো মোড়ে শ্রমিক দলের সাবেক এক নেতাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করার ঘটনা সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা প্রকাশ্যেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এরপর নগরের লবণচরা এলাকায় আরেক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব ঘটনায় জড়িতদের অনেকেই এলাকায় পরিচিত হলেও ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।
অপরাধের ধরন ও কারণ
স্থানীয় সূত্র এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, খুলনার বেশ কিছু অপরাধের পেছনে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর আধিপত্য বিস্তার, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক স্বার্থ জড়িত।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজেদের প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করে। ফলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
পরিসংখ্যানে বাড়ছে খুন
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা মহানগরে গত কয়েক বছরে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ওঠানামা করলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা বেড়েছে। ২০২১ সালে মহানগরে ১৫টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য থাকলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৪টিতে দাঁড়ায়। ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই মহানগরে একাধিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
খুলনা জেলাতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, অনেক ঘটনা মামলা পর্যন্ত না যাওয়ায় অপরাধের প্রকৃত চিত্র আরও বড় হতে পারে।
ভয়ের কারণে মুখ খুলছেন না অনেকে
খুলনায় কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের পর নিহতদের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই গণমাধ্যমে কথা বলতে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বললে প্রতিশোধের আশঙ্কা থাকে।
এই ভয়ের পরিবেশ অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে বলে মনে করছেন নাগরিকরা।
আদালত এলাকাতেও নিরাপত্তা প্রশ্নে
শুধু রাস্তা বা আবাসিক এলাকাই নয়, আদালত এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে জননিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু গ্রেপ্তার নয়, অস্ত্রের উৎস, মাদক নেটওয়ার্ক এবং অপরাধী গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ভিত্তি ভেঙে দেওয়াও জরুরি।
পুলিশের বক্তব্য
খুলনা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একাধিক অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় অপরাধীদের বিষয়েও নজরদারি করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ
খুলনার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর কৌশল নিতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অপরাধের মূল কারণগুলো দূর করাও গুরুত্বপূর্ণ।
Source: Based on reporting from Prothom Alo
