শাপলা গণহত্যা নিয়ে খালেদ সাইফুল্লাহর বক্তব্যে শাপলা স্মৃতি সংসদের নিন্দা
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে দেওয়া বক্তব্যের জেরে মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহর সমালোচনা করেছে শাপলা স্মৃতি সংসদ। সংগঠনটি দাবি করেছে, সম্প্রতি একটি পডকাস্টে দেওয়া তার মন্তব্যে শাপলা চত্বরে সংঘটিত “গণহত্যা”কে অস্বীকার বা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা শহীদদের স্মৃতির প্রতি অসম্মানজনক।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শাপলা স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামাল উদ্দীন এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত ঘটনা দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি “বেদনাবিধুর অধ্যায়” হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
‘ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না’
বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ঘটনার পর বহু হতাহতের অভিযোগ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা, মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, বহু পরিবার এখনো স্বজন হারানোর শোক বহন করছে এবং ঘটনার বিচার ও সত্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে।
শাপলা স্মৃতি সংসদের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন একটি ঘটনাকে অস্বীকার করা বা গুরুত্ব কমিয়ে দেখানো শুধু নিহতদের স্মৃতির প্রতি অবমাননাই নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের কষ্টকেও অস্বীকার করার শামিল।
তারা আরও দাবি করে, “শাপলা গণহত্যার” সত্য আড়াল বা বিকৃত করার যেকোনো প্রচেষ্টা ইতিহাসের আদালতে টিকবে না।
আলেমদের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য
বিবৃতিতে বলা হয়, একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ও সম্মানিত আলেমের কাছ থেকে এমন বক্তব্য আসায় অনেকেই বিস্মিত ও মর্মাহত হয়েছেন। তবে ব্যক্তি হিসেবে সম্মান থাকলেও ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কেউ সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন বলেও উল্লেখ করা হয়।
যদিও মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহর বক্তব্যের বিস্তারিত অংশ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি, তবে সংগঠনটি দাবি করেছে যে তার মন্তব্য শাপলা চত্বরের ঘটনার গুরুত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান
শাপলা স্মৃতি সংসদ জানিয়েছে, তারা শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং ঘটনার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার আন্দোলন চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে গবেষক, আলেম-উলামা, মানবাধিকারকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের “সত্যের পক্ষে অবস্থান” নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, শাপলা চত্বরের ঘটনা এখনও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় সংবেদনশীল একটি বিষয়। ঘটনাটি নিয়ে ভিন্নমত, বিতর্ক এবং বিচার দাবির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই জনপরিসরে আলোচিত হয়ে আসছে।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
