অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা : নৌপ্রতিমন্ত্রী
আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে নৌপথে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তিনি বলেছেন, ঘাট এলাকায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না।
সোমবার দুপুরে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট এলাকায় ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ঈদকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌরুটে যাত্রীসেবা, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের সত্যতা
পরিদর্শনের সময় তিন নম্বর ফেরিঘাটে লোকাল পরিবহনের যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পান প্রতিমন্ত্রী। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কালেক্টর ঠিকাদারকে জরিমানা করার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ঘাটে একাধিকবার পরিদর্শন চালানো হয়েছে এবং কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, “কিছু জায়গায় অতিরিক্ত ১০ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি ছোট মনে হলেও যাত্রীদের স্বার্থের ক্ষেত্রে এসব অনিয়ম গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
ঘাট ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি
রাজিব আহসান বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ঘাট এলাকায় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সরকার নৌপথে সার্বিক তদারকি বাড়িয়েছে। ফেরি ও লঞ্চঘাটগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
ফেরি ও লঞ্চের নিরাপত্তা যাচাই
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে ঈদযাত্রার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। পাশাপাশি ঘাটে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তিনি ফেরিতে পরিবেশিত খাবারের মান, লঞ্চচালকদের সনদ এবং লঞ্চের ফিটনেস সংক্রান্ত কাগজপত্রও পরীক্ষা করেন। সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়, যাত্রীসেবায় যেন কোনো ধরনের অবহেলা না থাকে।
নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাট ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে অনিয়মের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত তদারকি ও দ্রুত ব্যবস্থা যাত্রীভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিদর্শনের সময় বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Source: Based on reporting from local media sources
