উ. কোরিয়ার পরমাণু শক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের আপত্তি, ক্ষুব্ধ কিম!

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের আপত্তি, তীব্র প্রতিক্রিয়া কিমের

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের আপত্তি, তীব্র প্রতিক্রিয়া কিমের

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার যৌথ অবস্থানের পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। চার দেশের জোট “কোয়াড” (Quad) সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানালে উত্তর কোরিয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির নেতা Kim Jong Unর প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কখনোই নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবে না।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার “সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ” নিয়ে আবারও জোর দেওয়া হয়। এর পরপরই পিয়ংইয়ং অভিযোগ করে, কোয়াড মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যা তাদের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। 1

কোয়াড কী বলেছে?

কোয়াডভুক্ত দেশগুলো তাদের যৌথ বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়াকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। 2

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং উন্নত অস্ত্র কর্মসূচির কারণে কোয়াড দেশগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে আরও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে।

উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক শক্তির অবস্থান “অপরিবর্তনীয়” এবং বাইরের কোনো চাপ বা কূটনৈতিক বিবৃতি তা পরিবর্তন করতে পারবে না। দেশটি বলেছে, তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি জাতীয় নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার জন্য অপরিহার্য। 3

পিয়ংইয়ং আরও দাবি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক নয়। 4

কিমের অবস্থান কেন কঠোর?

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে Kim Jong Un বারবার ঘোষণা দিয়েছেন যে উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, কিম মনে করেন পারমাণবিক অস্ত্রই দেশটির নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় গ্যারান্টি এবং এটি ভবিষ্যতেও বজায় রাখা হবে। 6

কেন উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত?

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

অন্যদিকে ভারতও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পরমাণু বিস্তাররোধ নীতির অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কোয়াডের যৌথ বিবৃতিতে সেই অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। 7

নতুন অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া একাধিক নতুন অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি পরীক্ষার দাবি করেছে। দেশটি জানিয়েছে, তাদের কিছু অস্ত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক নির্দেশনা প্রযুক্তিও যুক্ত করা হয়েছে। 8

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব উন্নয়ন উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

আলোচনার সম্ভাবনা কি আছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র বা দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন আলোচনায় খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

তবে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে আলোচনা আবারও শুরু হতে পারে। 9

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি সরাসরি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলেও এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া এখন নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের কৌশল অনুসরণ করছে।

তারা বলছেন, নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত থাকলেও পিয়ংইয়ংয়ের বর্তমান অবস্থান থেকে দ্রুত সরে আসার সম্ভাবনা খুব কম।

উপসংহার

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের আপত্তির জবাবে পিয়ংইয়ং আবারও কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতপার্থক্য অব্যাহত থাকলে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

Next News Previous News