টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জনের পরিচয় সনাক্ত
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। নিহতদের বেশিরভাগই নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং পেশায় হকার বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার ভোরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের উদ্ধার তৎপরতা, হাসপাতালের করুণ দৃশ্য এবং স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
স্ত্রীর সঙ্গে প্রথম ঈদ আর করা হলো না সাগরের
নিহতদের একজন মো. সাগর মিয়া (২০)। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বিয়ে করেছিলেন তিনি। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে স্ত্রীর জন্য নতুন পোশাকও কিনেছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই সড়কে প্রাণ হারাতে হলো তাকে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে সাগরের চাচাতো বোন মনিনা আক্তার বলেন, “সাগরের মৃত্যুর খবর এখনো তার স্ত্রীকে জানানো হয়নি। এটা ছিল তাদের জীবনের প্রথম ঈদ।”
স্বজনদের এই বেদনাময় অভিজ্ঞতা আবারও সামনে এনেছে দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ।
রডের ওপর ঘুমিয়েছিলেন যাত্রীরা
আহতদের ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা রডবোঝাই ট্রাকে অনেক যাত্রী উঠেছিলেন। জনপ্রতি ৬০০ টাকা ভাড়া দিয়ে তারা উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ফিরছিলেন।
আহত বাবু নামে এক যাত্রী জানান, হঠাৎ করেই ট্রাকটি দুলতে শুরু করে এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেটি উল্টে যায়। তার ভাষ্য, অনেক যাত্রী ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন।
আরেক আহত যাত্রী সোমেজ বলেন, ট্রাকের ওপর বোঝাই করা রডের ওপর ঘুমিয়ে ছিলেন বেশিরভাগ যাত্রী। দুর্ঘটনার সময় তারা আত্মরক্ষার সুযোগই পাননি।
স্থানীয়দের উদ্ধার অভিযান
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরের দিকে বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা শাবল ও কোদাল এনে ট্রাকের নিচে চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব বলেন, ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন এবং আহতদের দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শনাক্ত হওয়া নিহতদের পরিচয়
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন:
নওগাঁর মান্দা উপজেলার সাগর মিয়া (২০), রবিউল ইসলাম (২৫), বারিক (২১), বাদশা (৩২), গিয়াস (২০), মাইনুল (২৮); রাজশাহীর তানোর উপজেলার ইসমাইল হোসেন (১৯); চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নজরুল ইসলাম (৬০) ও মামুন (৪৫); নওগাঁর নেয়ামতপুর উপজেলার সারিকুল (২৫); এবং ইয়াকুব (২০) ও তারেক (২০)।
অন্য তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রশাসনের সহায়তার আশ্বাস
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ জেলায় পৌঁছে দেওয়া এবং আহতদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে। এ জন্য নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন, অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ এবং মহাসড়কে তদারকির দুর্বলতা এখনও বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়তি যাত্রীচাপের সময় এসব ঝুঁকি আরও বাড়ে বলেও মনে করছেন তারা।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
