সকলের সহযোগিতা পেলে ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা সম্ভব
দেশের মানুষ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে সরকার একটি “কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ” গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দেশ গঠন, দায়িত্ববোধ এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উদ্যোগে আয়োজিত প্রীতিভোজে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, সৈনিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশ গঠনে সবার দায়িত্ব পালনের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে এবং সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে একটি উন্নত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ধাপে ধাপে এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা করছে, যেটি সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, দেশের নিরাপত্তা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি। জনগণ যেন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
ঈদের দিনে সেনাসদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
ঈদের সময় পরিবারের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালনকারী সেনাসদস্যদের আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রয়োজনে অনেক সেনাসদস্য ছুটিতে যেতে পারেননি, যা জাতির জন্য বড় ধরনের ত্যাগের উদাহরণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ সেনাবাহিনীর এই দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি সেনা সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও জরুরি পরিস্থিতিতে ভূমিকারও প্রশংসা করেন।
সাম্প্রতিক একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাংবাদিকদের উদ্ধারে সেনাসদস্যদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের মানবিক ও সাহসী কর্মকাণ্ড বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।
সেনানিবাসে শৈশবের স্মৃতিচারণ
বক্তৃতার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসে কাটানো শৈশবের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেনানিবাস এলাকায় প্রবেশের পর তার বহু পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে যায়। ছোটবেলায় বন্ধুদের সঙ্গে সাইকেল চালানো, সিএমএইচ এলাকায় যাওয়া এবং সেনাসদস্যদের সঙ্গে মেলামেশার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি স্মরণ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সময়ের সঙ্গে সেনানিবাসের অবকাঠামো ও পরিবেশে বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে জায়গাটির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত আবেগ ও স্মৃতির সম্পর্ক এখনো অটুট রয়েছে।
ঐক্য ও দায়িত্ববোধের ওপর জোর
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য ও দায়িত্ববোধের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়; এর জন্য নাগরিক, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার যৌথ দায়িত্ব। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঈদ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্য ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি ‘পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী’ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
Source: Based on reporting from Amar Desh Online and official statements from the Prime Minister’s event at Dhaka Cantonment
