শহীদ পরিবারের মাঝে কোরবানির খাসি বিতরণ এনসিপি এমপির

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে নারায়ণগঞ্জে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে শহীদ পরিবারের মাঝে কোরবানির জন্য একটি করে খাসি বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনের নেতৃত্বে দ্বিতীয় বছরের মতো এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এবার নারায়ণগঞ্জের ২৪টি শহীদ পরিবারের কাছে কোরবানির পশু পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

শহীদ পরিবারের কষ্ট থেকেই উদ্যোগের শুরু

অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন জানান, গত বছর এক শহীদ পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পরই তার মধ্যে এই উদ্যোগ নেওয়ার চিন্তা আসে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত এক তরুণের মা তাকে জানিয়েছিলেন, পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তারা কোরবানি দিতে পারেননি। সেই তরুণ জীবিত থাকলে ভবিষ্যতে পরিবারের জন্য কোরবানি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

এই কথোপকথন তাকে আবেগাপ্লুত করে এবং তিনি সিদ্ধান্ত নেন শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। পরে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও আত্মীয়স্বজনের সহায়তায় খাসি সংগ্রহ করে পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় বছরেও অব্যাহত উদ্যোগ

এনসিপি সূত্র জানায়, গত বছর ২২টি শহীদ পরিবারের মাঝে কোরবানির খাসি বিতরণ করা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ২৪-এ দাঁড়িয়েছে। সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পরিবারের হাতে খাসি তুলে দিচ্ছেন।

সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, সন্তান হারানো পরিবারগুলোর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া তাদের এই মানবিক উদ্যোগকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে। তিনি দাবি করেন, শহীদ পরিবারের পাশে থাকা শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বও।

ঈদকে ঘিরে বাড়ছে মানবিক উদ্যোগ

প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা বা আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন উদ্যোগ একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে, অন্যদিকে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর জনসম্পৃক্ততাও বাড়ায়। তবে এসব সহায়তা যেন শুধুমাত্র প্রতীকী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও সহায়তার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক আবেগের কেন্দ্রবিন্দু জুলাই আন্দোলন

নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে এখনো রাজনৈতিক ও সামাজিক আবেগ প্রবল রয়েছে। আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন সংগঠন নিয়মিত কর্মসূচি পালন করছে। শহীদ পরিবারগুলোর আর্থিক ও মানসিক সহায়তা নিয়েও নানা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ঈদের মতো ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের সময় এসব পরিবারকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করা সামাজিক সংহতি ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে।

Source: Based on reporting from Amar Desh and statements from NCP leaders

Next News Previous News