বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলা থেকে হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যানের অব্যাহতি

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা থেকে হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনকে অব্যাহতি দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার কার্যক্রমও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলায় আদালতের এ রায় নতুন করে আইনি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বুধবার বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এই রায় দেন। মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত আসে।

আইনি প্রক্রিয়া ও রায়ের পটভূমি

মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছর হাইকোর্টে আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করে তার বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছিলেন।

পরবর্তীতে সেই রুল চূড়ান্তভাবে গ্রহণ (রুল অ্যাবসলিউট) করে আদালত তার বিরুদ্ধে মামলা বাতিলের নির্দেশ দেন।

আইনজীবীদের যুক্তি

মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা যুক্তি দেন, মামলার প্রধান আসামিরা ইতোমধ্যে অব্যাহতি পেয়েছেন। ফলে সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকেও শুনানিতে অংশ নেওয়া হয়, তবে আদালত আবেদনকারীর পক্ষে রায় দেন।

মামলার ইতিহাস

২০০৮ সালে রাজধানীর শাহবাগ থানায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি সংক্রান্ত এই দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়। এতে কয়লা উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।

মামলায় রাষ্ট্রের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছিল। একই বছরের ৫ অক্টোবর ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

পূর্ববর্তী আদালতের সিদ্ধান্ত

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বিচারিক আদালত কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করলেও, একই মামলায় কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আগেই অব্যাহতি পান। এদের মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বও ছিলেন।

এছাড়া মামলার কিছু আসামি মৃত্যুবরণ করায় তাদের বিরুদ্ধেও কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

আইনি বিশ্লেষণ

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান আসামিদের অব্যাহতির পর সহযোগী আসামির বিরুদ্ধে মামলা টিকিয়ে রাখা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে। এই রায় সেই আইনি নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনমনে নানা প্রশ্নও তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।

উপসংহার

সব মিলিয়ে, হাইকোর্টের এই রায়ের মাধ্যমে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটলো। তবে বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ও দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next News Previous News