চরমোনাই মাহফিলে আসা কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের কেবিনে আগুন
চরমোনাই মাহফিলে নোঙর করা কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা
বরিশালের চরমোনাই মাহফিলে অংশ নিতে ঢাকা থেকে আসা রিজার্ভ লঞ্চ কীর্তনখোলা-১০-এর একটি কেবিনে বুধবার রাতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। চরমোনাই ঘাটে নোঙর করা অবস্থায় রাত প্রায় ৮টার দিকে লঞ্চটির ৩২৫ নম্বর কেবিনে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের উৎপত্তি। তবে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।
স্থানীয় সূত্র এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় সংশ্লিষ্ট কেবিনে কোনো যাত্রী বা মুসল্লি অবস্থান করছিলেন না। লঞ্চের স্টাফ ও কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে কেবিনের ভেতরে থাকা আসবাব, বিছানাপত্র এবং কিছু ব্যক্তিগত মালামাল পুড়ে গেলেও আগুন অন্য কেবিন বা পুরো লঞ্চে ছড়িয়ে পড়েনি। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। 0
বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল
ঘটনার সময় চরমোনাই ঘাটে আরও কয়েকটি যাত্রীবাহী ও বিলাসবহুল লঞ্চ নোঙর করা ছিল। মাহফিলে অংশ নিতে আসা হাজারো মুসল্লি এসব লঞ্চে রাত্রিযাপন করছিলেন। এ অবস্থায় আগুন যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যেত, তবে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশেষ করে চরমোনাই মাহফিলের মতো বড় ধর্মীয় সমাবেশে নদীপথে আগত যাত্রীদের সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। ঘাট এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ নোঙর পরিস্থিতিতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে।
নিরাপত্তা নির্দেশনা জোরদার
মাহফিল সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিভাগ থেকে লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে বৈদ্যুতিক সংযোগ, কেবিনের ফ্যান, চার্জিং পয়েন্ট এবং অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি মশার কয়েল, চার্জার বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথাও বলা হয়েছে। 1
বাংলাদেশের নদীপথ নিরাপত্তা প্রসঙ্গ
বাংলাদেশে বড় ধর্মীয় সমাবেশ, ঈদযাত্রা বা উৎসবকেন্দ্রিক সময়ে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ও দীর্ঘ সময় নোঙর অবস্থান নতুন নয়। এ ধরনের সময়ে অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমন পথ এবং স্টাফদের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি যাত্রীবাহী লঞ্চে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, শর্ট সার্কিট প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং জরুরি মহড়া বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।
সাময়িক ক্ষয়ক্ষতি হলেও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে একটি সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এ যাত্রায় এড়ানো গেছে। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা তদারকি এখন সময়ের দাবি।
Source: Based on reporting from NewsNow24, DBC News and other local media sources
