চরমোনাই মাহফিলে আসা রিজার্ভ লঞ্চ ডুবি
চরমোনাই মাহফিলে আসা রিজার্ভ লঞ্চ নদীতে ডুবি, চলছে উদ্ধার অভিযান
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী চরমোনাই বাৎসরিক মাহফিলে অংশ নিতে আসা যাত্রীবাহী একটি রিজার্ভ লঞ্চ কীর্তনখোলা নদীতে ডুবে গেছে। বুধবার দুপুরে ভাটার সময় নদীর পানি কমে যাওয়ার পর নোঙর করা অবস্থায় লঞ্চটি কাত হয়ে ডুবে যায়। তবে স্বস্তির খবর হলো, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা নিখোঁজের তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস, ডুবুরি দল এবং বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
স্থানীয় সূত্র জানায়, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে এমভি মানিক-৪ নামের লঞ্চটি চরমোনাই মাহফিলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। মঙ্গলবার গভীর রাতে জোয়ারের সময় লঞ্চটি কীর্তনখোলা নদীর তীরে একটি গাছের সঙ্গে শক্ত করে বাঁধা অবস্থায় নোঙর করা হয়।
নদীতে জোয়ারের পানি বেশি থাকায় লঞ্চটি তীরের বালুর বস্তার ওপর কিছুটা উঠে যায়। পরে বুধবার দুপুরে ভাটা শুরু হলে পানি দ্রুত কমতে থাকে। শক্তভাবে বাঁধা থাকার কারণে পানির স্তর নিচে নেমে গেলে লঞ্চটি ভারসাম্য হারিয়ে একপাশে কাত হয়ে ডুবে যায়।
যাত্রীদের নিরাপত্তা
দুর্ঘটনার সময় লঞ্চের সব যাত্রী মাহফিলের মূল ময়দানে অবস্থান করছিলেন। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও বাস্তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে কয়েকজন যাত্রীর ব্যক্তিগত মালামালের সামান্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক কে এম সরিয়াতুল্লাহ জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত কাজ করছে।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
দুর্ঘটনার পরপরই বরিশাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জুলফিকার আলী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে। বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চলমান ছিল।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রাসঙ্গিকতা
চরমোনাই মাহফিলকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মুসল্লি বরিশালে সমবেত হন। নদীপথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য এই ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে জোয়ার-ভাটার সময় নদীতে নোঙর করা যাত্রীবাহী লঞ্চের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এখন সবার নজর ডুবে যাওয়া লঞ্চটি দ্রুত উদ্ধারের দিকে।
Source: Based on reporting from local administration, BIWTA officials and field sources in Barishal.
