যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানে স্থল অভিযানে ইসরাইলের ‘না’, কারণ কী?
ইরানে স্থল অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘না’ বলছে ইসরাইল—পেছনে কী কারণ?
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান-এর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে তাতে সরাসরি অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে ইসরায়েল—এমনই ইঙ্গিত মিলছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে। এই অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ ও আলোচনা।
১. ভৌগোলিক ও সামরিক বাস্তবতা
ইরান একটি বৃহৎ দেশ এবং এর ভূখণ্ড পাহাড়ি ও কৌশলগতভাবে জটিল। স্থল অভিযান পরিচালনা করতে হলে দীর্ঘ সরবরাহ লাইন, ব্যাপক সেনা মোতায়েন এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযানে জড়ানো ইসরাইলের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
২. বহুমুখী ফ্রন্টের চাপ
ইসরায়েল ইতোমধ্যে একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, বিশেষ করে হিজবুল্লাহ ও হামাস-এর মতো গোষ্ঠীগুলোর হুমকি। এই অবস্থায় ইরানে সরাসরি স্থল যুদ্ধে জড়ালে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
৩. আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা
স্থল অভিযান শুরু হলে তা দ্রুতই বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইরান-এর মিত্র গোষ্ঠীগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সক্রিয়, যা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে তুলতে পারে।
৪. কৌশলগত পছন্দ: আকাশ ও গোয়েন্দা অভিযান
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েল সাধারণত সরাসরি স্থল অভিযানের বদলে নির্ভুল বিমান হামলা, সাইবার অপারেশন ও গোয়েন্দা তৎপরতার ওপর বেশি নির্ভর করে। এই পদ্ধতিতে ঝুঁকি তুলনামূলক কম এবং লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত আঘাত হানা সম্ভব।
৫. আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক হিসাব
স্থল অভিযানে অংশ নিলে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র-এর মিত্র হলেও, ইসরায়েল নিজস্ব কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক হিসাব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে চায়।
বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিকতা
এই পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশ-এর ওপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং বৈদেশিক আয়ে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপসংহার
ইরানে স্থল অভিযানে অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে ইসরায়েল ঝুঁকি কমানোর কৌশলই বেছে নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে আগামী দিনের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর।
