বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা ফের যাচ্ছে সরকারের হাতে
বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা ফের সরকারের হাতে, ২০ অধ্যাদেশ বাতিলের পথে
বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় সরকারের হাতে ফিরছে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ চলতি সংসদ অধিবেশনে অনুমোদন পাচ্ছে না, ফলে সেগুলোর কার্যকারিতা হারানোর পথে।
১৩৩টি অধ্যাদেশের পর্যালোচনা
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিয়েছে। এর মধ্যে ১১৩টি অধ্যাদেশ বিল আকারে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে এবং বাকি ২০টি বাতিল বা স্থগিত রাখা হচ্ছে।
সংবিধান অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। ফলে আগামী ১০ এপ্রিলের পর এসব অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হবে।
বিচার বিভাগ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন
বাতিলের তালিকায় রয়েছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি অধ্যাদেশ:
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫
- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫
- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
এই অধ্যাদেশগুলোর মাধ্যমে বিচারক নিয়োগে একটি স্বতন্ত্র সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব ছিল, যা বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির মতে, এসব অধ্যাদেশ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কার্যত কমে যায়।
১৬টি অধ্যাদেশে নতুন বিল আনার পরিকল্পনা
আরও ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই পাস না করে ভবিষ্যতে সংশোধন করে নতুন বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ
- গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ
- দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ
গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক
গণভোট অধ্যাদেশ পাস না হলে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ কমিটি এটিকে সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেছে।
তাদের মতে, এই অধ্যাদেশ সংসদের সার্বভৌম ক্ষমতাকে খর্ব করেছে এবং সংবিধানের মূল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রাজনৈতিক প্রভাব ও উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, এসব অধ্যাদেশ বাতিল হলে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে।
একই সঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবী ও সচেতন মহল।
সব মিলিয়ে, সংবিধান সংস্কার ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে সামনের দিনগুলোতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
