এক-এগারোর সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার করা হবে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এক-এগারোর সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগগুলো তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে দায়ীদের ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাইব্যুনাল দেশের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে বলেও জানা গেছে। 0
ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগও তদন্তে
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিগত বছরগুলোতে “ক্রসফায়ার” নামে পরিচিত বহু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় একটি “কমন ডিজাইন” বা একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা তৎকালীন সরকারের মতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন অথবা স্থানীয় ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ট্রাইব্যুনাল এসব ঘটনাকে সিস্টেমেটিক, ব্যাপক ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে মূল্যায়ন করে তদন্ত শুরু করেছে। 1
সারাদেশ থেকে পরিসংখ্যান ও মামলার কপি সংগ্রহ
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, সারাদেশে সংঘটিত ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলার কপি সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করা হবে।
এই টিম নির্ধারণ করবে কোন ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করা হবে।
জুলাই আন্দোলনের মামলাগুলোও পর্যালোচনায়
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, জুলাই আন্দোলন ঘিরে সারাদেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বহু মামলা ইতোমধ্যে প্রসিকিউশন অফিসে জমা পড়েছে। এসব মামলার সংখ্যা পাঁচ থেকে সাতশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিটি মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন পর্যন্ত আসামির নাম রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 2
তিনি বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের মূল লক্ষ্য হলো যেন কোনো প্রকৃত অপরাধী আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে এবং একই সঙ্গে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন।
বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ওপর জোর
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় পরিসরের মামলাগুলোতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগে তথ্য-প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাইব্যুনালের এই ঘোষণা দেশে আলোচিত অতীত ঘটনাগুলোর বিচার প্রক্রিয়াকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। এখন নজর থাকবে তদন্তের অগ্রগতি এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের দিকে।
Source: Based on reporting from tribunal press briefing and verified national reports
