আওয়ামী আমলের মতো পরীক্ষা এদেশে চলবে না: শিক্ষামন্ত্রী
কুমিল্লা: দেশের পাবলিক পরীক্ষায় নকল বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, অতীতের মতো আর কোনোভাবেই নকলনির্ভর পরীক্ষা চলতে দেওয়া হবে না এবং এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নকল বন্ধে কঠোর অবস্থান
শুক্রবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, একসময় শিক্ষকদের মাধ্যমেই পরীক্ষায় নকলের প্রবণতা শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে তা ব্যাপক আকার ধারণ করে।
তিনি বলেন, অতীতে কিছু পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের খাতায় লিখে দিতেন, যা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ছিল। ভবিষ্যতে এমন কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
শিক্ষকদের দায়িত্বের ওপর জোর
শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব মূলত শিক্ষকদের ওপরই নির্ভর করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বা প্রশাসনের ভূমিকা থাকলেও একটি সুশিক্ষিত সমাজ গঠনে শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে সৎ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারা শিক্ষকদের জন্য বড় অর্জন। তাই নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সিসিটিভি নজরদারিতে পরীক্ষা
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষার সময় নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমও প্রযুক্তির আওতায় আনতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন ও তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নকল ও প্রশ্নফাঁস দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও টেকসই সমাধান পাওয়া যায়নি।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রযুক্তিগত নজরদারি নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা জোরদার এবং শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
সমাপনী ভাবনা
নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষক, প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
