ড. ইউনূসকে নিজের লেখা বই উপহার দিলেন আবিদুল ইসলাম
ড. ইউনূসের হাতে ‘স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল’, জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ রাজনীতিক ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক আবিদুল ইসলাম খান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ Muhammad Yunus-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে ইউনূস সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে তিনি নিজের লেখা বই ‘স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল’ ড. ইউনূসের হাতে তুলে দেন। ইউনূস সেন্টারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাক্ষাতে জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, তরুণদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 1
বই উপহারের তাৎপর্য
সাক্ষাৎকালে আবিদুল ইসলাম খান জানান, বইটি মূলত জুলাইয়ের উত্তাল সময়, আন্দোলনের ভেতরের অভিজ্ঞতা এবং নিজের চোখে দেখা ঘটনাপ্রবাহের এক ধরনের দলিল। তার ভাষায়, এটি শুধু একটি বই নয়, বরং একটি সময়ের সাক্ষ্য, যেখানে আন্দোলনের চেতনা, ত্যাগ এবং গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রয়েছে।
বইটি গ্রহণ করে ড. ইউনূস আনন্দ প্রকাশ করেন এবং লেখককে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশে সামাজিক পরিবর্তন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও যুব নেতৃত্বের প্রশ্নে ড. ইউনূস দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। 3
জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে বক্তব্য
সাক্ষাৎ শেষে আবিদুল ইসলাম খান বলেন, জুলাইয়ের চেতনা হচ্ছে অপশাসন, স্বৈরশাসন এবং মানুষের কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ও আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি সবার, এবং এর ইতিহাস ধারণ করতে হলে সব পক্ষের বক্তব্য সমানভাবে শোনা প্রয়োজন।
তার মতে, একপাক্ষিক বয়ান দিয়ে ইতিহাস লেখা হলে প্রকৃত বাস্তবতা আড়াল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই জুলাইকে একটি ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য বার্তা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎকে প্রতীকী গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্ব, গণআন্দোলনের স্মৃতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বয়ান নির্মাণে এমন প্রকাশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইতিহাসভিত্তিক বই ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দলিল নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপসংহার
ইউনূস সেন্টারে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ শুধু একটি বই উপহার দেওয়ার ঘটনা নয়, বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস, তরুণ নেতৃত্ব এবং গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি প্রতীকী সংলাপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
