সরকারি চাল পাচারের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা কারাগারে

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) চাল পাচারের অভিযোগে এক সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত জাকারিয়া চৌধুরী রতন, যিনি স্থানীয়ভাবে ওএমএস ডিলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাকে আদালতের মাধ্যমে সোমবার জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।

প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি সহায়তা কর্মসূচির চাল আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ এই চাল মূলত নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দ ছিল।

হাতে-নাতে আটক, পরে উদ্ধার আরও ১৩ বস্তা

অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার বিকেলে জাকারিয়া চৌধুরী রতন তিন বস্তা সরকারি চাল হবিগঞ্জ শহরের দিকে সরিয়ে নেওয়ার সময় দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর সদস্যদের হাতে হাতে-নাতে ধরা পড়েন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও চাল সরিয়ে ফেলার তথ্য দেন।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৮টার দিকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আরও ১৩ বস্তা পাচারকৃত চাল উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ১৬ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ডিলার হিসেবে দায়িত্বে অনিয়মের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করাব ইউনিয়নে ওএমএস ডিলার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে সরকারি চাল বিতরণে অনিয়ম, কম ওজন দেওয়া এবং চাল গোপনে সরিয়ে ফেলার অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দ চাল নিয়মিতভাবে যথাসময়ে না পাওয়ার পেছনে ডিলার পর্যায়ের অনিয়ম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় সেই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে সরকারি সহায়তা কর্মসূচির অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

জনস্বার্থে তাৎপর্য

ওএমএস কর্মসূচি দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই চাল পাচারের মতো ঘটনা শুধু সরকারি সম্পদের অপচয় নয়, বরং দরিদ্র মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ে ডিলারদের কার্যক্রমে আরও কঠোর নজরদারি এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে এ ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

Source: Based on reporting from local correspondent, Lakhai (Habiganj)

Next News Previous News