জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি, দুই আইনজীবী আটক

সুনামগঞ্জ: মহান স্বাধীনতা দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনার পর সুনামগঞ্জে দুই আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কারা গ্রেপ্তার হলেন

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—অ্যাডভোকেট মনিষ কান্তি দে মিন্টু এবং অ্যাডভোকেট শামীম আহমদ। মনিষ কান্তি দে মিন্টু সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে শামীম আহমদের বাড়ি শহরতলীর মঙ্গলকাটা এলাকায়।

পুলিশের বক্তব্য

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি পুরোনো মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সঞ্জয় সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাদের আটক করা হয়েছে এবং মামলার বিষয়ে আরও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

ঘটনার পটভূমি

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জের কালেক্টরেট এলাকায় আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের উদ্যোগে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে আদালত প্রাঙ্গণে শহীদ মিনারে সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। ওই কর্মসূচিতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আইনজীবীসহ দলীয় সমর্থকরা অংশ নেন এবং সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কর্মসূচিটি ছিল শান্তিপূর্ণ এবং নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবেই পরিচালিত হয়। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরই তাদের গ্রেপ্তার করা হলে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ

এ ঘটনায় সুনামগঞ্জের আইনজীবী মহল ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিনে এমন গ্রেপ্তার অপ্রত্যাশিত, আবার অন্যরা বলছেন, যদি পুরোনো মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকে, তবে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া স্বাভাবিক।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় দিবসের কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার হওয়া জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাই তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

বর্তমান পরিস্থিতি

গ্রেপ্তারের পর আইনজীবী দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতের কার্যক্রমের দিকে নজর রাখছে স্থানীয়রা।

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন সবার নজরে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News