সারাজীবন ইসলামের রাজনীতি করে শেষে শরীয়া আইন চায় না জামায়াত : পার্থ
সংসদে পার্থের প্রশ্ন: ইসলামের রাজনীতি শেষে শরীয়া আইন থেকে সরে কেন?
জাতীয় সংসদে রাজনৈতিক আদর্শ ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনায় ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার সংসদের অধিবেশনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘদিন ইসলামের নামে রাজনীতি করার পর এখন শরীয়া আইন থেকে সরে আসার বক্তব্য কেন সামনে আনা হচ্ছে। তার মতে, এই অবস্থান ভোটের কৌশলগত প্রয়োজন থেকেই নেওয়া হয়েছে।
সংসদে তীব্র সমালোচনা
বিধি-৬২-এর আওতায় আনা প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে পার্থ বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের আদর্শিক অবস্থান যদি দীর্ঘ সময় ধরে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে নির্বাচনী বাস্তবতায় হঠাৎ ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, “সারা জীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করে এখন যদি বলা হয় শরীয়া আইন চাওয়া হচ্ছে না, তাহলে জনগণের সামনে এর ব্যাখ্যা থাকা দরকার।”
সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
বক্তব্যে তিনি সংবিধান সংস্কারের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পার্থ বলেন, যদি প্রকৃত অর্থে বিপ্লবী পরিবর্তনের লক্ষ্য থাকত, তাহলে সে সময় একটি ট্রানজিশনাল বা বিপ্লবী সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া যেত। তার মতে, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতর থেকেই একই সংবিধানকে বাতিল করার চেষ্টা একটি জটিল সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সংস্কার অবশ্যই হতে পারে, তবে তার জন্য প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা, জাতীয় ঐকমত্য এবং সাংবিধানিক শুদ্ধতা বজায় রাখা জরুরি।
সংবিধানের প্রতি সম্মান
পার্থ সংবিধানকে পুরোপুরি বাতিল না করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পক্ষে মত দেন। তার ভাষায়, রাষ্ট্রের মৌলিক দলিল হিসেবে সংবিধানের প্রতি সম্মান থাকা উচিত। প্রয়োজনে সংশোধন, সংযোজন বা আধুনিকায়ন হতে পারে, তবে সেটিকে সম্পূর্ণভাবে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখেন না।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, সংবিধানকে কি শুধুই অতীত রাজনৈতিক বিরোধের দলিল হিসেবে দেখা হচ্ছে, নাকি রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে তার গুরুত্ব বিবেচনা করা হচ্ছে?
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনমত
বিশ্লেষকদের মতে, পার্থের এই বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস, সংবিধান সংস্কার বিতর্ক এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শের ধারাবাহিকতা ও অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।
উপসংহার
সংসদে দেওয়া এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক দলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো, সাংবিধানিক সংস্কার এবং আদর্শিক স্বচ্ছতা নিয়েও বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠতে পারে।
