ফুলছড়িতে ধরা পড়ল ৯০ কেজি ওজনের বাগাড় মাছ

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে জেলের জালে ধরা পড়েছে প্রায় ৯০ কেজি ওজনের একটি বিশাল বাগাড় মাছ। শুক্রবার ভোরে ধরা পড়া এই মাছটি স্থানীয় বাজারে বিক্রির পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিরল প্রজাতির এই মাছ ধরা পড়ার ঘটনাকে ঘিরে পরিবেশ ও আইনি দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের জেলে মোস্তফা ভোর রাতে মাছ ধরার সময় ব্রহ্মপুত্র নদে তার জালে এই বড় আকারের বাগাড় মাছটি ধরা পড়ে। পরে সকালে তিনি মাছটি ফুলছড়ির বালাসী ঘাটে নিয়ে আসেন, যেখানে এটি দেখতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষজন।

বাজারে উচ্চ দামে বিক্রি

ঘাটে নিয়ে আসার পর মাছটি দ্রুতই স্থানীয় পাইকারদের নজরে আসে। শুরুতে এর দাম ৮০ হাজার টাকা হাঁকা হলেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয় ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া ৯০ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন। এত বড় আকারের মাছ সচরাচর দেখা যায় না বলে বাজারে এটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে আগে মাঝে মাঝে বড় মাছ ধরা পড়লেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন বিশাল বাগাড় মাছ খুব কমই দেখা যায়। ফলে এই ঘটনাটি ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আইনগত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন

ফুলছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মারজান সরকার জানান, বিদ্যমান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় এই ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ হতে পারে। বিশেষ করে ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কিছু জলজ প্রাণী সংরক্ষণের আওতায় রয়েছে, যার ফলে এ ধরনের মাছ ধরা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ পর্যালোচনা করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আকারের দেশীয় মাছ যেমন বাগাড় নদীর সুস্থ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। এ ধরনের মাছ কমে যাওয়ার পেছনে নদীর নাব্যতা হ্রাস, দূষণ এবং অতিরিক্ত মাছ ধরাকে দায়ী করা হয়।

বাংলাদেশের নদীগুলোতে বড় আকারের দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পরিবেশবিদরা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। এই প্রেক্ষাপটে ফুলছড়িতে ধরা পড়া বাগাড় মাছটি একদিকে যেমন কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে নদী ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।

স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল

মাছটি দেখতে স্থানীয় ঘাটে ভিড় করেন অনেক মানুষ। অনেকে মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের কাছে এটি একটি বিরল অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আরও সচেতন হওয়া জরুরি।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News