১/১১-তে তারেক রহমানের জামিনে ভূমিকা রেখেছি, আদালতে মামুন

ঢাকা: এক-এগারো (১/১১) সময়কাল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ। একটি হত্যা মামলায় ঢাকার আদালতে হাজির হয়ে তিনি দাবি করেছেন, সেই সময় তিনি তারেক রহমানের জামিন প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভূমিকা পালন করেছিলেন। এদিকে একই মামলায় আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

রিমান্ড শুনানিতে নতুন দাবি

বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানির সময় অনুমতি নিয়ে শেখ মামুন খালেদ এই বক্তব্য দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড চাইলেও শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে নিজের বক্তব্যে মামুন খালেদ বলেন, এক-এগারোর সময় তিনি কুমিল্লায় কর্মরত ছিলেন এবং সে সময়কার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মামলায় তারেক রহমানের জামিনে তিনি সরাসরি ভূমিকা রাখেন। তাঁর এই বক্তব্য আদালতকক্ষে তাৎক্ষণিক আলোচনার জন্ম দেয়।

হত্যা মামলার প্রেক্ষাপট

মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘর্ষে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত সংস্থা বলছে, ঘটনার পেছনে কারা নির্দেশ দিয়েছিল তা জানতে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। রিমান্ড আবেদনে শেখ মামুন খালেদের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিতও তুলে ধরা হয়।

পক্ষ-বিপক্ষের যুক্তি

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরে বলেন, শেখ মামুন খালেদ অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছেন এবং এই মামলার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার দায়িত্ব পালনকালীন সময় নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক রয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, মামলার এজাহারে শেখ মামুনের নাম নেই এবং ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তারা বলেন, তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং দীর্ঘদিন ধরে অসামরিক জীবনযাপন করছেন, কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তাই রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

আত্মপক্ষ সমর্থনে যা বললেন মামুন

নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ মামুন খালেদ বলেন, তিনি দায়িত্ব পালনকালে আইন অনুযায়ী কাজ করেছেন এবং তার মেয়াদকালে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এছাড়া আলোচিত বিভিন্ন প্রকল্প ও ঘটনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল দায়িত্ব পালনের সীমার মধ্যেই।

তিনি আরও দাবি করেন, অবসর গ্রহণের পর থেকে তিনি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করছেন এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হননি।

গ্রেপ্তার ও বর্তমান অবস্থা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকা থেকে সম্প্রতি তাকে আটক করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এখন তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তদন্ত সংস্থা।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, এক-এগারো পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সাম্প্রতিক আন্দোলন—দুই সময়ের ঘটনাকে একই মামলার আলোচনায় টেনে আনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে উচ্চপদস্থ সাবেক কর্মকর্তার এমন বক্তব্য ভবিষ্যৎ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয় এবং তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেটিই এখন মূল নজরকাড়া বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News