মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা
গজারিয়ায় মুক্তিযোদ্ধার ওপর নৃশংস হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন জিস্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে ৭৬ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহিদুজ্জামান নইমুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 0
জমি বিরোধ থেকে রক্তাক্ত সংঘর্ষ
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমির পরিমাপকে কেন্দ্র করে ওয়াহিদুজ্জামান নইমুলের সঙ্গে প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার দুপুরে সালিশ ও জমি মাপজোখের একপর্যায়ে তিনি মহাসড়কের দিকে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীদের নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় এক নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের সাবেক নেতা। 1
হামলার সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। 2
চিকিৎসকদের ভাষ্য: অবস্থা সংকটাপন্ন
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, আহত মুক্তিযোদ্ধার একটি হাত ও একটি পা ভেঙে গেছে। এছাড়া মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে, যা তার অবস্থাকে আরও জটিল করেছে। চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। 3
অভিযোগ ও পুলিশের অবস্থান
আহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জেরেই এই হামলা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা নিরাপত্তাহীনতার কথাও জানিয়েছেন এবং আরও হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
গজারিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অভিযুক্তদের শনাক্তে কাজ চলছে। 4
স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ
একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধার ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে এমন হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়, তবে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লক্ষ্য করে এমন নৃশংস হামলা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
উপসংহার
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও স্থানীয় বিরোধ ব্যবস্থাপনায় এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। হামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও স্বজনরা।
