নদীতে পড়ার আগেই ৫-৭ জন বাস থেকে বেরিয়ে যায় : ফায়ার সার্ভিস

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দুর্ঘটনা ঘিরে নতুন তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আগে ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী নিজ উদ্যোগে বের হয়ে যেতে সক্ষম হন।

দুর্ঘটনার মুহূর্ত ও প্রাথমিক তথ্য

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর পন্টুনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। রাজবাড়ী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায় এবং প্রায় ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটিতে আনুমানিক ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘাট এলাকায়।

নদীতে পড়ার আগেই কিছু যাত্রীর রক্ষা

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জানান, বাসটি নদীতে পড়ার আগেই কয়েকজন যাত্রী পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত বের হয়ে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “৫ থেকে ৭ জন যাত্রী পানিতে পড়ার আগেই বাস থেকে বের হতে পেরেছেন।”

এছাড়া দুর্ঘটনার পর আরও ১১ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন বলে জানা গেছে, যা বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে সহায়ক হয়েছে।

উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার

দুর্ঘটনার পরপরই গোয়ালন্দ ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট এবং আরিচা ফায়ার স্টেশনের একটি ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বাসটি শনাক্ত ও উত্তোলনের কাজে সহায়তা করছে। তবে নদীর গভীরতা এবং স্রোতের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম জটিল হয়ে উঠেছে।

নিখোঁজদের খোঁজে উৎকণ্ঠা

এখনো বেশ কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘাট এলাকায় নিখোঁজদের স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন প্রশ্ন

এই দুর্ঘটনা ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠানামার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময় ও উৎসব মৌসুমে যানবাহনের চাপ বাড়লে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চালকদের প্রশিক্ষণ, পন্টুন ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা নজরদারি জোরদার করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

উপসংহার

দৌলতদিয়া ঘাটের এই দুর্ঘটনায় কিছু যাত্রী শেষ মুহূর্তে নিজ উদ্যোগে বের হয়ে প্রাণ বাঁচাতে পারলেও অনেকেই এখনো নিখোঁজ। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হবে না। তবে এ ঘটনা ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা ও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনে দিয়েছে।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next News Previous News