যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সার রপ্তানি সীমিত করল চীন, বাড়ছে বৈশ্বিক সংকট

সার সংকট, চীন রপ্তানি সীমিত, বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা—মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ঘিরে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হওয়ার মধ্যেই সার রপ্তানি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে চীন নাইট্রোজেন-পটাশিয়াম মিশ্রণ এবং কিছু ফসফেটজাতীয় সার রপ্তানি সীমিত বা নিষিদ্ধ করেছে। এর আগে থেকেই ইউরিয়া রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকায় সামগ্রিকভাবে সার সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

রপ্তানি কমায় বৈশ্বিক সরবরাহে ধাক্কা

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চীন থেকে খুব সীমিত পরিসরে সার রপ্তানি হচ্ছে, যার মধ্যে প্রধানত অ্যামোনিয়াম সালফেট রয়েছে। এতে করে দেশটির মোট রপ্তানি গত বছরের তুলনায় অর্ধেক থেকে তিন-চতুর্থাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সীমাবদ্ধতার ফলে বৈশ্বিক বাজারে প্রায় ৪০ মিলিয়ন মেট্রিক টন সার সরবরাহ কমে যেতে পারে, যা কৃষি খাতের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যাহত

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

বিশ্বের মোট সারের একটি বড় অংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ পথের অচলাবস্থা সরাসরি সরবরাহ ঘাটতি তৈরি করছে।

চীনের অভ্যন্তরীণ বাজার সুরক্ষার কৌশল

বিশ্লেষকদের মতে, চীন বরাবরই বৈশ্বিক সংকটের সময় অভ্যন্তরীণ বাজারকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান বিএমআইয়ের জ্যেষ্ঠ পণ্য বিশ্লেষক ম্যাথিউ বিগিন বলেন, এই পদক্ষেপ নতুন কিছু নয়; বরং এটি একটি ধারাবাহিক কৌশলের অংশ।

তার মতে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে চীন সরবরাহ সীমিত করছে।

বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশের উদ্বেগ

বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর ও সার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সরাসরি কৃষি উৎপাদন ব্যয় বাড়াতে পারে।

এর ফলে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। তাই বিকল্প উৎস খোঁজা এবং মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

উপসংহার

চীনের সার রপ্তানি সীমিত করার সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে এই নীতিগত পরিবর্তন যুক্ত হয়ে সামনের দিনগুলোতে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from Reuters

Next News Previous News