গাদ্দাফি থেকে খামেনি: মিত্রদের পতনে পুতিন কখনও সরব, কখনও নিশ্চুপ
খামেনি হত্যাকাণ্ডে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া: পুতিনের সতর্ক নিঃশব্দতা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন ২৮ ফেব্রুয়ারি। পরের দিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ঘটনাকে একটি 'হত্যাকাণ্ড' এবং 'মানবিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের নির্লজ্জ লঙ্ঘন' বলে বর্ণনা করেন। তবে কারা এটা ঘটিয়েছে, তা নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
রাশিয়া ও ইরান ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু ওই চুক্তি অনুযায়ী মস্কো সামরিক সহায়তা দিতে বাধ্য নয়।
পুতিনের অতীত প্রকাশ্য মন্তব্যের তুলনা
মস্কোর পাঁচটি মিত্র দেশের সরকার পতনের পর ২০১১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পুতিনের প্রকাশ্য বিবৃতি বিবিসি মনিটরিং বিভাগ পর্যালোচনা করেছে। দেখা গেছে, অতীতে গাদ্দাফি ও ইয়ানুকোভিচের ঘটনায় পুতিন স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেছিলেন।
গাদ্দাফি ও ইয়ানুকোভিচ
লিবিয়ায় ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর, পুতিন বিস্তারিত বিবৃতি দিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, আমেরিকার ড্রোন গাদ্দাফির গাড়িবহরকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। এছাড়া জাতিসংঘের হস্তক্ষেপকে মধ্যযুগীয় আহ্বান হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের ক্ষমতাচ্যুতির পর পুতিন প্রকাশ্য মন্তব্য করেছিলেন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর নাম উল্লেখ করে অভ্যুত্থানকে ব্যাখ্যা করেছিলেন।
আসাদ ও মাদুরো
২০২৪ সালের ডিসেম্বরের গোড়ায় বাশার আল-আসাদের শাসনের পতনের সময় পুতিন কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি। একইভাবে ২০২৬ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেফতারে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি, যদিও রাশিয়ার অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা নিন্দা জানিয়েছিলেন।
খামেনি: হত্যাকাণ্ড, তবে কারা দায়ী?
নিকোলাস মাদুরোর গ্রেফতারে কিছু না বললেও, খামেনির মৃত্যুতে ক্রেমলিন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। তবে ভ্লাদিমির পুতিন ঘটনার জন্য কারা দায়ী, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
