সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সোহেলের দাফন সম্পন্ন, গ্রামজুড়ে শোক
সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সোহেলের দাফন সম্পন্ন, গ্রামজুড়ে শোক
বরিশাল, মেহেন্দীগঞ্জ (চানপুরা) – ১৯ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে নিহত সোহেল ফকির-এর মরদেহ বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চানপুরা ইউনিয়নের চরখাককাটা এলাকায় দাফন করা হয়েছে। তবে একই ঘটনায় তার বাবা মিরাজ ফকির এখনো বুড়িগঙ্গা নদীতে নিখোঁজ রয়েছেন। আহত হয়েছেন সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার, যিনি বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জোহরের নামাজের পর স্থানীয় নুর মোহাম্মদ মৃধাবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সোহেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় গোটা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। উৎসবের আমেজের বদলে এলাকায় বিরাজ করছে নীরবতা ও শোক।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে সদরঘাট এলাকায় লঞ্চে ওঠার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন সোহেল। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই সময় তার বাবা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন এবং স্ত্রী গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সোহেলের বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। মরদেহ পৌঁছালে মা-বোনসহ পরিবারের সদস্যদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
নিহত সোহেলের চাচা ফারুক ফকির জানান, জীবিকার তাগিদে প্রায় দুই দশক আগে ঢাকায় পাড়ি জমান মিরাজ ফকির। তিনি সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্যানারিতে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে ছেলে সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে একই পেশায় যুক্ত করেন। বিয়ের পর স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে সাভারে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন সোহেল। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ফেরার সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
ফারুক ফকির আরও বলেন, সোহেলের মা গ্রামে তিন মেয়ে সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন সোহেল ও তার বাবা। এই দুর্ঘটনার পর পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে সহায়তার দাবি জানান তারা।
প্রসঙ্গত, মিরাজ ফকির তার ছেলে ও পুত্রবধূকে নিয়ে ট্রলারে করে সদরঘাটে আসছিলেন। এ সময় আরেকটি লঞ্চের ধাক্কায় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সোহেল নিহত হন, তার বাবা নিখোঁজ হন এবং স্ত্রী গুরুতর আহত হন।
