শান্তি বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা: জেলেনস্কি-পুতিন আলোচনায় দ্বিধায় মস্কো

আলাস্কা সম্মেলনের পর হোয়াইট হাউসে ইউরোপীয় নেতাদের সাথে বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানালেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে আলোচনার আয়োজনের চেষ্টা চলছে। কিন্তু মস্কোর প্রতিক্রিয়া সেই প্রত্যাশার সাথে মেলেনি।

ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানান, প্রতিনিধি পর্যায় উন্নতকরণের ধারণা আলোচনা হয়েছে, তবে কাদের নিয়ে তা হতে পারে—সেটি স্পষ্ট করেননি। এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, “দ্বিপক্ষীয় কিংবা ত্রিপক্ষীয় কোনো কাজই আমরা প্রত্যাখ্যান করছি না। তবে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের যেকোনো আলোচনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলেনস্কির সাথে বৈঠকে বসা মানেই হবে পুতিনের এক ধরনের স্বীকারোক্তি—যে নেতাকে তিনি এতদিন গুরুত্ব দেননি, তার সাথেই আলোচনায় বসতে হচ্ছে। চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক ওরিসিয়া লুতসেভিচের ভাষায়, “এতে রুশ জনগণকেও বোঝানো কঠিন হবে, যাদের প্রতিদিন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব গণমাধ্যমে বলা হয় জেলেনস্কি অবৈধ ও পশ্চিমাদের হাতের পুতুল।”

মস্কো ইতিমধ্যেই দাবি তুলেছে, চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির আগে ইউক্রেনে নির্বাচন হতে হবে। কিন্তু সামরিক আইনের কারণে সেখানে ভোট স্থগিত রয়েছে। এমনকি কিয়েভ প্রশাসনের অভিযোগ, ক্রেমলিন জেলেনস্কির নাম উচ্চারণ করতেও অনীহা প্রকাশ করছে।

বিশ্লেষক তাতিয়ানা স্তানোভায়া মনে করেন, পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধকে মূলত পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি যদি মনে করেন আলোচনায় রাশিয়ার স্বার্থ সুরক্ষিত হতে পারে, তাহলে বৈঠকে রাজি হতে পারেন। তাঁর ভাষায়, “রাশিয়া যা চাইছে তা অর্জনে ট্রাম্প সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছে মস্কো।”

অন্যদিকে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, তিনি ইতিমধ্যেই পুতিন ও জেলেনস্কির বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও পরবর্তীতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি সুর নরম করে বলেন, “আমি একভাবে সেট-আপ করেছিলাম, কিন্তু সিদ্ধান্ত তাদেরই। আমরা তো সাত হাজার মাইল দূরে।”

এদিকে মাঠের পরিস্থিতিও শান্তিপূর্ণ নয়। সপ্তাহের শুরুতে কিছুটা ড্রোন হামলা কমালেও সোমবার রাতে রাশিয়া ইউক্রেনে ২৭০টিরও বেশি ড্রোন ও ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে আবারও প্রশ্ন উঠছে—যখন সামরিক আক্রমণ বাড়ছে, তখন কি আসলেই শান্তি বৈঠকের কোনো বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে?

প্রশ্ন রয়ে গেল—এই বৈঠক যদি না-ও হয়, তাহলে ব্যর্থতার দায় কে নেবে? যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, নাকি ইউক্রেন?

Next News Previous News