একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় হাইকোর্টের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে শুনানি চলছে
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ সব আসামির খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা আপিলের শুনানি চলছে।
আজ সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। আদালতে আসামিদের পক্ষে উপস্থিত আছেন অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ।
এর আগে, হাইকোর্ট এ মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তসহ সব আসামিকে খালাস দেন। তাঁদের ভাষায়, “যে অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে বিচারিক আদালত রায় দিয়েছিল, তা আইনে গ্রহণযোগ্য নয়।”
ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে এবং চলতি বছরের জুনে সুপ্রিম কোর্ট তা গ্রহণ করে। এরপর থেকেই মামলাটি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে।
পেছনের প্রেক্ষাপট
২০১৮ সালে বিচারিক আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপি নেতাসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাইকোর্ট রায় উল্টে দেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়। এতে দলের শীর্ষ নেত্রী শেখ হাসিনাসহ বহু নেতা-কর্মী আহত হন এবং নিহত হন অন্তত ২৪ জন, যাঁদের মধ্যে ছিলেন আইভি রহমান। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
সাম্প্রতিক আপডেট
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক চলছে। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, বিচারিক আদালতের দেওয়া মূল সাজা পুনর্বহাল হবে, অন্যদিকে আসামিপক্ষ বলছে, হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা উচিত।
এই মামলার রায় দেশের রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশ্ন হলো—ন্যায়বিচারের পথ কি নতুনভাবে নির্ধারিত হতে যাচ্ছে?
