১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগেরও বেশি সময় পর নতুন মোড়! দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটাতে চলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই লন্ডন ছেড়ে দেশে ফিরবেন তিনি—এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা।
তার ভাষায়, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে আসার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তফসিল ঘোষণার পরই তিনি পরিবারসহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।”
২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে দেশ ছাড়েন তিনি। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অবস্থান করছেন যুক্তরাজ্যে। এ সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা দায়ের হলেও পরবর্তীতে তিনি সেগুলো থেকে অব্যাহতি পান। আইনি বাধা না থাকলেও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে এতদিন দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি—জানিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা আরও বলেন, “দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলের নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা আশাবাদী, তাঁর জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
নির্বাচনি আইনের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকার। ফলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি পাবেন ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (CSF)’-এর অধীন নিরাপত্তা।
সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে ভোটের প্রস্তুতি নিতে চিঠি দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণা করা হবে। ফলে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই।
দেশে ফিরে নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় অংশগ্রহণ করবেন বলেও জানিয়েছেন তাঁর উপদেষ্টা। “তিনি দলীয় প্রধান হিসেবে নির্বাচনি মাঠে সরাসরি অংশ নেবেন,”—বলেন হুমায়ুন কবীর।
এক প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে—১৭ বছর পর তাঁর প্রত্যাবর্তন কীভাবে প্রভাব ফেলবে আগামী নির্বাচন এবং দেশের রাজনীতির চিত্রপটে?
